শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে আবেদন জমা পড়েছে ২৪ লাখেরও বেশি। প্রতিযোগিতামূলক এ পরীক্ষার (লিখিত) আগমুহূর্তে প্রস্তুতি এগিয়ে রাখার টিপস। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (লিখিত) মানবণ্টন আগের মতো থাকলেও এবার কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। প্রশ্নপত্রের সেট নির্ধারণ করা হবে প্রার্থীর রোল নম্বর অনুসারে ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে। যাতে পাশাপাশি বসা প্রার্থীদের সেট না মিলে যায়। পরীক্ষার আগের রাতে জেলা প্রশাসকের কাছে অনলাইনে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনকারী বেশি হওয়ায় কয়েকটি ধাপে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

৮০ নম্বরের লিখিত ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষাসহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে। প্রশ্ন করা হবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক এবং অন্যান্য) এই চারটি বিষয়ে। প্রতিটি বিষয়ে ২০টি করে মোট ৮০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।

উত্তরপত্র দেখার ক্ষেত্রে ‘নেগেটিভ মার্কিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর করে কাটা হবে। অর্থাৎ চারটি প্রশ্নের ভুল উত্তর দিলে ১ নম্বর কাটা যাবে। তাই শতভাগ নিশ্চিত না হলে উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না।  এমসিকিউ প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৮০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের জন্য গড়ে এক মিনিট করে সময় পাওয়া যাবে।

বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসের খুঁটিনাটি জানা থাকতে হবে। গল্প, কবিতা বা উপন্যাসের রচয়িতা থেকে প্রশ্ন বেশি আসে। বাংলাদেশের কবি ও সাহিত্যিকদের জীবনী এবং তাঁদের সাহিত্যকর্ম; ব্যাকরণ অংশ থেকে ভাষা, শব্দ, পদ, কারক-বিভক্তি, প্রকৃতি-প্রত্যয়, সন্ধি, সমাস, শুদ্ধ বানান, পারিভাষিক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ থেকেও প্রশ্ন থাকতে পারে। সন্ধি, সমাস, কারক থেকে প্রতিবছরই কোনো না কোনো প্রশ্ন থাকে। এক পলক দেখামাত্রই যেন উত্তর করা যায়, সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ থেকে অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ ও উদাহরণ দেখতে পারলে ভালো হয়।

ইংরেজি ভাষা ও গ্রামার-ইংরেজি বেসিক গ্রামারের ওপর ধারণা স্পষ্ট থাকতে হবে। Article, Part of Speech, The Gender, The Number, Tense, Right Forms of Verb, Subject-Verb Agreement, Sentence & Transformation, Clause, Corrections, Sentence Completion, Conditional Sentence, Idioms & Phrases, Preposition, Voice, Narration, Synonym, Antonym, Spelling ইত্যাদির ওপর জোর দিতে হবে। চারটি Preposition থেকে শূন্যস্থানে কোনটি বসবে, গ্রামারের বিচারে কোন বাক্যটি শুদ্ধ, কোনটি সঠিক Indirect Speech এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে। বিগত কয়েক বছরের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখলে বেশ ভালো ধারণা পাওয়া যাবে।

গণিত অংশ-গণিতের সমাধান বের করতে অনেকে বেশি সময় নিয়ে ফেলেন। কম সময়ে অঙ্কের সঠিক সমাধান করার প্রস্তুতি নেবেন। প্রতিদিন নমুনা প্রশ্ন দেখে কয়েক ঘণ্টা চর্চা করলেই এটা সম্ভব। পরীক্ষার নির্দেশনায় ‘সাধারণ ক্যালকুলেটর’ ব্যবহারের অনুমতি থাকলে নেবেন; কিন্তু সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর নয়। পাটি গণিতে বাস্তব সংখ্যা, ল.সা.গু ও গ.সা.গু, সরল ও যৌগিক মুনাফা, অনুপাত-সমানুপাত, ঐকিক নিয়ম, লাভ-ক্ষতি, ভগ্নাংশ, ধারাপাত এবং বীজগণিতের প্রথম পর্যায়ের কিছু অঙ্ক, বহুপদী উৎপাদক, সূচক ও লগারিদম, সরল সমীকরণ ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। অনেক সময় দশমিকের গুণ, ভাগ থাকে। জ্যামিতির সাধারণ সূত্র ও সংজ্ঞা থেকেও প্রশ্ন আসে।

সাধারণ জ্ঞান-বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের ইতিহাস, জাতীয় বিভিন্ন বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে ঘটে যাওয়া গত এক বছরের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তারিখ দিয়ে নোট করে রাখলে পরীক্ষার আগে এক পলক দেখে নেওয়া যাবে। বাজারে সাম্প্রতিক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও তথ্যসংবলিত বই পাওয়া যায়। ‘আন্তর্জাতিক’ অংশে এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কিত প্রশ্ন বেশি দেখা যায়। বিভিন্ন দেশের রাজধানী ও রাষ্ট্রপ্রধানের নাম, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিখ্যাত স্থাপনা ও জায়গা, খেলাধুলা ও পুরস্কার, দিবস ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন আসে। সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আবিষ্কার, বিভিন্ন খাদ্যগুণ, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগব্যাধি, কম্পিউটার, তথ্য-প্রযুক্তি থেকেও প্রশ্ন থাকতে পারে। সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য পত্রপত্রিকার পাশাপাশি আজকের বিশ্ব, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, নতুন বিশ্ব বইগুলো পড়তে পারেন।

সর্বশেষ আপডেট-১২ হাজার পদের জন্য আবেদন করেছেন ২৪ লাখ পাঁচজন প্রার্থী। অর্থাৎ প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রতিযোগিতা করবেন ২০০ জন প্রার্থী।

লিখিত পরীক্ষা : লিখিত পরীক্ষার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ১৩ মার্চএর পর চূড়ান্ত তারিখ জানানো হবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ১২ জেলার প্রার্থীদের পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ এপ্রিলের ২য় সপ্তাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *